
পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করতে এক যুগান্তকারী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত নতুন শিল্পনীতি কেবল বিনিয়োগকারীদের মাঝে আশার আলোই জাগায়নি, বরং দীর্ঘদিনের জট পাকানো ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে সহজ করার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। আধুনিক অর্থনীতির চাহিদা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার কথা মাথায় রেখে প্রণীত এই নীতিতে শিল্পবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যটিকে শিল্পায়নের এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
নতুন এই শিল্পনীতির সবচেয়ে আলোচিত এবং কৌশলগত দিকটি হলো সরকারি উদ্যোগে 'ল্যান্ড ব্যাংক' বা ভূমি ভাণ্ডার তৈরির ঘোষণা। অতীতে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা এবং স্থানীয় কৃষক বা সাধারণ মানুষের আইনি ও সামাজিক অসন্তোষ। বর্তমান সরকারের এই নতুন উদ্যোগে সেই ঐতিহাসিক সমস্যার একটি কাঠামোগত সমাধানের পথ খোঁজা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে শিল্পায়নের জন্য নির্দিষ্ট ও প্রস্তুতকৃত জমি সরাসরি ল্যান্ড ব্যাংকের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বরাদ্দ করা হবে, যার ফলে জমি অধিগ্রহণের দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতা বহুগুণ কমে যাবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার ঘোষণায় শিল্পায়নে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় একাধিক নীতিগত সংস্কারের কথাও স্পষ্ট করেছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন খাতের বিকাশকে তরান্বিত করার লক্ষ্যে এই সংস্কারগুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন শিল্পপতি ও বাণিজ্য প্রতিনিধিরা। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পের পাশাপাশি বৃহৎ শিল্পে পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে আস্থার সংকট অতীতে তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে এই নতুন নীতি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের পথও সুগম হবে।
তবে, এই বৃহৎ ল্যান্ড ব্যাংক তৈরির কার্যকারিতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদল বিশ্লেষক যেখানে একে বিনিয়োগ আকর্ষণের মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন, অন্য একটি পক্ষ মনে করছেন যে, উর্বর কৃষিজমির সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকা অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদারকি করতে হবে। অতীতে শিল্পায়নের নামে রাজনৈতিক অস্থিরতার ইতিহাস থাকা এই রাজ্যে জমি নীতির মারপ্যাঁচ সামলে কতটা সুচারুভাবে এই ল্যান্ড ব্যাংক পরিচালনা করা যায়, তার ওপর নির্ভর করছে পুরো প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সাফল্য।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের নতুন শিল্পনীতি ও ল্যান্ড ব্যাংক গঠনের এই উদ্যোগ রাজ্যের অর্থনৈতিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। সঠিক বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং সুশাসনের মাধ্যমে যদি এই নীতি প্রয়োগ করা সম্ভব হয়, তবে তা বেকারত্ব দূরীকরণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এক নতুন বিপ্লব ঘটাবে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের এই সদিচ্ছা মাঠপর্যায়ে কতটা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই নতুন সুযোগকে কীভাবে কাজে লাগান।
দৈনিক সুনামগঞ্জ সংবাদ | Dainik Sunamganj Sangbad. ফোনঃ +8801738462523 ইমেইলঃ sunamganjsangbad@gmail.com
©২০২৬ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | Presented by ITFaire