
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ঘটে গেল। লস অ্যাঞ্জেলেসের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ মেয়র নির্বাচনে বর্তমান মেয়র ক্যারেন বাসকে পরাজিত করে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ও ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট পার্টির নেত্রী নিথ্যা রমন। এই ফলাফল কেবল ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরই নয়, বরং পুরো মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনকে হতবাক করে দিয়েছে। ভোটের লড়াইয়ের একদম শুরুতে নিথ্যা রমনকে একজন অত্যন্ত দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, যার জয়ের সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায় ছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় এবং তৃণমূলের রাজনীতিতে তার দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা শেষ পর্যন্ত হিসাব পাল্টে দিয়েছে।
নিথ্যা রমন এমন এক সময় এই অসাধ্য সাধন করলেন যখন মার্কিন রাজনীতিতে ঐতিহ্যবাহী দলীয় কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন মুখ ও বিকল্প রাজনৈতিক চিন্তার কদর বাড়ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি মূলত আবাসন সংকট, ক্রমবর্ধমান গৃহহীনতা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বাস্তবমুখী ও জনকল্যাণমুখী ইস্যুগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছিলেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো একটি জনবহুল ও জটিল শহরে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ক্যারেন বাসকে হটিয়ে একজন সমাজতান্ত্রিক নেত্রীর এই উত্থান মার্কিন ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরেও এক গভীর বার্তার জন্ম দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ভোটাররা এখন কেবল ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, বরং শহরের প্রকৃত সমস্যা সমাধানে সক্ষম প্রগতিশীল নেতৃত্ব দেখতে চায়।
এদিকে নিথ্যা রমনের এই ঐতিহাসিক জয়ের পরেই মার্কিন রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে এক নতুন আলোচনা—তার সঙ্গে নিউইয়র্কের প্রভাবশালী তরুণ রাজনীতিক জোহরান মামদানির তুলনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিথ্যা রমন এবং জোহরান মামদানি দুজনেই মার্কিন মূলধারার রাজনীতিতে প্রগতিশীল ও সমাজতান্ত্রিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করছেন। উভয়েই প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে তরুণ প্রজন্ম এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক বিশাল আশার সঞ্চার করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের রাজনৈতিক দর্শন, সমাজ পরিবর্তনের দৃঢ় প্রত্যয় এবং তৃণমূল থেকে উঠে আসার সংগ্রামের মধ্যে এক নিবিড় মিল খুঁজে পাচ্ছেন গবেষকরা।
জোহরান মামদানির মতোই নিথ্যা রমন তার ক্যারিয়ারে কর্পোরেট স্বার্থের চেয়ে জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের নির্বাচনে তার এই জয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থী ও সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি বিরাট মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন রাজনীতিতে দক্ষিণপন্থী ও রক্ষণশীল প্রভাবের বিপরীতে যে বিকল্প রাজনীতির খোঁজ করা হচ্ছিল, নিথ্যা রমন এবং জোহরান মামদানির মতো উদীয়মান নেতৃত্ব সেই শূন্যতা পূরণে জোরালো ভূমিকা রাখছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন আগামী দিনের মার্কিন নির্বাচনেও গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে নিথ্যা রমনের এই বিশ্বমঞ্চে সফলতা শুধু লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রবাসী বাংলাদেশ বা ভারতীয়দেরই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে অভিবাসী সম্প্রদায়ের তরুণ নেতৃত্বকে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। প্রতিকূলতাকে জয় করে ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর এই গল্প আগামী দিনের বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। লস অ্যাঞ্জেলেসের নতুন মেয়র হিসেবে নিথ্যা রমনের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে মার্কিন নগর প্রশাসনে এক দীর্ঘস্থায়ী ও জনমুখী পরিবর্তনের সূচনা হবে বলেই প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
দৈনিক সুনামগঞ্জ সংবাদ | Dainik Sunamganj Sangbad. ফোনঃ +8801738462523 ইমেইলঃ sunamganjsangbad@gmail.com
©২০২৬ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | Presented by ITFaire