০৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের সাথে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও কাজ করার বার্তা সানায়ে তাকাইচির

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১০:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১১ বার পড়া হয়েছে।

কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই কথা জানান। এর আগে সকালে টোকিওস্থিত জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-এ দ্বিপাক্ষীয় বৈঠক করেন সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এই বৈঠকের পর নিজের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে এ পোস্ট দেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে সানায়ে তাকাইচি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে শুভকামনা জানাতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের রাষ্ট্র পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় জাপান পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাবে। এছাড়া একটি মুক্ত, সুশাসিত ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (এফওআইপি) গঠনে বাংলাদেশ ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশীদার। এর মাধ্যমে শিল্পের মূল্য সংযোজন ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা এবং প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি বাড়ানো হবে।

বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণার উদ্ধৃতি দিয়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রী জানান, দুই দেশের অর্থনৈতিক ও শিল্প সম্পর্ককে নতুন এক উচ্চতায় নিতে বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়কে পুনর্গঠন করে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামে একটি নতুন কৌশলগত উদ্যোগে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে দুই রাষ্ট্র। এই কাঠামোর আওতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, শিল্প উন্নয়ন এবং আইসিটি অবকাঠামো খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ১৭ কোটি মানুষের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের যে অবস্থান, তা জাপানি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আলোচনা চলাকালে তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপানের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি এবং শান্তিপ্রতিনিধি হিসেবে জাপানের ভূমিকাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন উদ্যোগের মূল ভিত্তি হবে চারটি—যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা; ভূরাজনৈতিক চাপ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ঝুঁকি সামলানোর ক্ষমতা তৈরি করা; সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়িয়ে অর্থনৈতিক নীতি সহজ করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে।

প্রকাশিত যৌথ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে জাপানের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করতে পারে। এই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে আনুমানিক দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোগত ভিত্তি শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে যৌথ ঘোষণায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের সাথে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও কাজ করার বার্তা সানায়ে তাকাইচির

আপডেট সময়ঃ ১০:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই কথা জানান। এর আগে সকালে টোকিওস্থিত জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-এ দ্বিপাক্ষীয় বৈঠক করেন সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এই বৈঠকের পর নিজের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে এ পোস্ট দেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে সানায়ে তাকাইচি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে শুভকামনা জানাতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের রাষ্ট্র পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় জাপান পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাবে। এছাড়া একটি মুক্ত, সুশাসিত ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (এফওআইপি) গঠনে বাংলাদেশ ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশীদার। এর মাধ্যমে শিল্পের মূল্য সংযোজন ও সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা এবং প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি বাড়ানো হবে।

বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণার উদ্ধৃতি দিয়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রী জানান, দুই দেশের অর্থনৈতিক ও শিল্প সম্পর্ককে নতুন এক উচ্চতায় নিতে বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়কে পুনর্গঠন করে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামে একটি নতুন কৌশলগত উদ্যোগে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে দুই রাষ্ট্র। এই কাঠামোর আওতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, শিল্প উন্নয়ন এবং আইসিটি অবকাঠামো খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ১৭ কোটি মানুষের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের যে অবস্থান, তা জাপানি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আলোচনা চলাকালে তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপানের ঐতিহাসিক স্বীকৃতি এবং শান্তিপ্রতিনিধি হিসেবে জাপানের ভূমিকাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন উদ্যোগের মূল ভিত্তি হবে চারটি—যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা; ভূরাজনৈতিক চাপ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ঝুঁকি সামলানোর ক্ষমতা তৈরি করা; সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়িয়ে অর্থনৈতিক নীতি সহজ করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে।

প্রকাশিত যৌথ ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে জাপানের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করতে পারে। এই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে আনুমানিক দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোগত ভিত্তি শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে যৌথ ঘোষণায়।