নেতানিয়াহুর যুগের অবসান ঘটিয়ে ইসরায়েলে সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে আইজেনকোট
- আপডেট সময়ঃ ১০:০০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
- / ৮ বার পড়া হয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় পরিবর্তন ঘটেছে, যেখানে দীর্ঘকাল ধরে ইসরায়েলের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা আইজেনকোটকে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচন কোনো একক দল বা জোটের জন্য স্পষ্ট বিজয় নিয়ে আসেনি। ফলে দেশটিতে এক গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, যা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে তীব্র দফার দফার আলোচনা শুরু করেন।
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে যে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোট—কাউকেই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সফল হতে দেননি ইসরায়েলি ভোটাররা। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নেতানিয়াহু যখন বারবার ক্ষমতা ধরে রাখার নতুন সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই বিরোধী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং মধ্যপন্থী ভোটারদের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা পুরো দৃশ্যপট পাল্টে দেয়। কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন নিশ্চিত করতে না পারায় ইসরায়েলি রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ঝুলে থাকা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এই জটিল ও স্থবির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের সাংবিধানিক ধারা বজায় রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সংকট এড়াতে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নেসেটে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক করেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রচলিত বিধান এবং দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসা সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে প্রেসিডেন্ট অবশেষে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরিবর্তে বিরোধী নেতা আইজেনকোটের হাতেই সরকার গঠনের গুরুদায়িত্ব অর্পণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন, যা ইসরায়েলের সমসাময়িক রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের ভূকম্পন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্টের এই আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের পর আইজেনকোট এখন নতুন সরকার গঠনের জন্য সংবিধানুযায়ী ২৮ দিনের একটি নির্ধারিত সময় পাবেন। এই স্বল্প ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্যে তাঁকে নেসেটে একটি স্থায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে, যার জন্য তাকে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা ভুলে বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় আসতে হবে। একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত আইজেনকোটের জন্য এই জোট গঠনের মিশনটি মুখের কথা হবে না, কারণ বিভক্ত পার্লামেন্টে প্রতিটি দলেরই নিজস্ব উচ্চাভিলাষী দাবিদাওয়া রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইজেনকোট যদি এই ২৮ দিনের মধ্যে সফলভাবে সরকার গঠন করতে পারেন, তবে তা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতানিয়াহু যুগের অবসান ঘটাতে পারে এবং দেশের বৈদেশিক নীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন হাওয়া বইতে পারে। তবে তিনি যদি ব্যর্থ হন, তবে ইসরায়েলকে আরও একটি অনিশ্চিত নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে। সব মিলিয়ে, আইজেনকোটের এই নতুন রাজনৈতিক যাত্রা কেবল তাঁর নিজের ক্যারিয়ারই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতিকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা।






















