রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝে কলকাতায় আওয়ামী লীগের তৎপরতা, ব্যবসায়িক অঙ্গনেও বাড়ছে উদ্বেগ
- আপডেট সময়ঃ ০৯:০২:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৬ বার পড়া হয়েছে।

শনিবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিকগুলোর পাতার দিকে তাকালে এক জটিল ও বহুমাত্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের চিত্র ফুটে ওঠে। একদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আসার গুঞ্জন এবং সেই কেন্দ্র করে দেশের বাইরে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারতে জড়ো হওয়ার খবর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, বিমান চলাচলের বিভিন্ন মাশুল বৃদ্ধির পরিকল্পনা সাধারণ যাত্রীদের মনে বিমান ভাড়া আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব জব্দের পদক্ষেপে দেশের ব্যবসায়ী মহলে চরম উৎকণ্ঠা ও অস্বস্তি বিরাজ করছে, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করেছে।
দৈনিক পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দেশের বাইরে আশ্রিত বা প্রবাসী আওয়ামী লীগের শীর্ষ ও মাঝারি সারির নেতারা নড়েচড়ে বসেছেন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতায় তাদের গোপন ও প্রকাশ্য তৎপরতা লক্ষণীয় মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা কিংবা বিদেশে অবস্থানকারী এই নেতারা আগামী ডিসেম্বরের রাজনৈতিক সমীকরণকে নিজেদের অনুকূলে আনার কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন। কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির মারপ্যাঁচে কলকাতার এই জমায়েত বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন কোনো মোড় নেয় কি না, তা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও গভীর পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তাপের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের অর্থনৈতিক খাতও এক গভীর সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি বিমান চলাচল সংক্রান্ত বিভিন্ন মাশুল ও চার্জ বাড়ানোর একটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যার বাস্তবায়ন ঘটলে বিমান টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনিতেই বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আকাশপথে যাতায়াত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে, তার ওপর নতুন করে এই মাশুল বৃদ্ধি পেলে প্রবাসী কর্মী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা মারাত্মক বিপাকে পড়বেন। এ বিষয়ে বিমান চলাচল খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত পর্যটন শিল্প ও বিমান পরিবহন খাতকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এদিকে, অর্থনীতিতে যখন স্থবিরতা কাটানোর নানা চেষ্টা চলছে, ঠিক সেই সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঢালাও ব্যাংক হিসাব জব্দের নীতি ব্যবসায়ী মহলে গভীর আতঙ্ক ও অনাস্থার সৃষ্টি করেছে। নির্দিষ্ট ও প্রমাণিত দুর্নীতির অভিযোগ বা আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে ঢালাওভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থগিত করার ফলে ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন লেনদেন, ঋণপত্র (এলসি) খোলা এবং কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বলছেন, এ ধরনের ঢালাও পদক্ষেপের ফলে বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে বড় ধরনের ঝুঁকি দেখছেন। দেশের চলমান অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে রাজস্ব বোর্ডের এমন কঠোর ও ঢালাও নীতির যৌক্তিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সব মিলিয়ে, ডিসেম্বরের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক ভূরাজনীতির পারদ চড়ার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে এক ধরনের দমবন্ধ করা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অন্যদিকে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নীতিগত অস্থিরতা—উভয় মিলে সাধারণ মানুষের জীবনে ও দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতায় একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই বহুমুখী সংকটের কার্যকর ও সময়োপযোগী সমাধান না এলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা। সংকট উত্তরণে সংশ্লিষ্ট মহলগুলো থেকে দ্রুত সংলাপ ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবি উঠছে।




















