০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে মাদকবিরোধী পোস্ট, কলেজছাত্রীর ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে ফেসবুকে মাদকবিরোধী পোস্ট দেওয়ার জেরে এক কলেজছাত্রীর ঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে পুরো পরিবার।

সোমবার (১৩ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের দাবি, কে বা কারা ডিজেল বা পেট্রোল জাতীয় দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। রাত ৩টার দিকে আগুন নজরে আসে। প্রতিবেশী বিল্লাল, সফিকুল, সাহেলসহ কয়েকজন পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে ঘরের বাইরের অংশসহ টিন ও মালামাল পুড়ে যায়।

ভুক্তভোগী সাজমিন আক্তার সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা শফিক মিয়া ওয়েজখালী বাজারের একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারী।

সাজমিন বলেন, মাদকসেবীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে “সুনামগঞ্জ হেল্পলাইন” ফেসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট দেই। এরপর থেকেই হুমকি পেতে থাকি। আমরা মনে করি, এই ঘটনার পেছনে গুচ্ছগ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান জড়িত। সে এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। বাবা রাতে দেরিতে বাড়ি ফেরেন। আমি খুব ভয় পাচ্ছি, যদি তাকেও কিছু করে ফেলে।

প্রতিবেশীরা জানান, চিৎকার শুনে আমরা বের হয়ে দেখেছি আগুন। পরে সবাই মিলে আগুন নেভাই। ঠান্ডা বাতাসের কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু যদি গরমের দিন হতো তাহলে আগুনে আশপাশের ঘরের ক্ষতি হতো।

সাজমিনের বাবা বলেন, গ্রামে মাদক সেবন, ইভটিজিং, মোবাইল চুরি এবং প্রকাশ্যে খুনের হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে মেহেদীর বিরুদ্ধে। তার ভয়ে আমি বাসা থেকে বের হচ্ছি না। তার কার্যকলাপ ও ভয়ভীতির কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার বোন ফারজানা জান্নাত বলেন, এদের সঙ্গে আমাদের গতকাল ঝামেলা হয়েছে। আগুন আমার ভাই লাগায়নি। এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না।

অভিযুক্ত মেহেদীর মা বলেন, আমার ছেলে আগুন দেয়নি। আমরা ঘুমে ছিলাম আগুন লাগার পরে সবার চিৎকার শুনে আমরা আগুন দেখতে পেয়েছি। সে এখন কাজে আছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম সুনামগঞ্জ সংবাদকে বলেন, আমি জেলার বাইরে আছি। আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছে। তাদের মধ্যে আগের দ্বন্দ্ব ছিল। আগুন কারা দিয়েছে তা কেউ দেখেনি। বাকিটা তদন্ত শেষে জানানো হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Sunamganj Sangbad

জনপ্রিয় পোস্ট

ফ্যাসিবাদী সরকার মসজিদের নামে যা করেছে, সেটা গর্হিত কাজ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফেসবুকে মাদকবিরোধী পোস্ট, কলেজছাত্রীর ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

আপডেটের সময় : ১২:০০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামে ফেসবুকে মাদকবিরোধী পোস্ট দেওয়ার জেরে এক কলেজছাত্রীর ঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে পুরো পরিবার।

সোমবার (১৩ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের দাবি, কে বা কারা ডিজেল বা পেট্রোল জাতীয় দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। রাত ৩টার দিকে আগুন নজরে আসে। প্রতিবেশী বিল্লাল, সফিকুল, সাহেলসহ কয়েকজন পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে ঘরের বাইরের অংশসহ টিন ও মালামাল পুড়ে যায়।

ভুক্তভোগী সাজমিন আক্তার সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা শফিক মিয়া ওয়েজখালী বাজারের একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারী।

সাজমিন বলেন, মাদকসেবীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে “সুনামগঞ্জ হেল্পলাইন” ফেসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট দেই। এরপর থেকেই হুমকি পেতে থাকি। আমরা মনে করি, এই ঘটনার পেছনে গুচ্ছগ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান জড়িত। সে এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। বাবা রাতে দেরিতে বাড়ি ফেরেন। আমি খুব ভয় পাচ্ছি, যদি তাকেও কিছু করে ফেলে।

প্রতিবেশীরা জানান, চিৎকার শুনে আমরা বের হয়ে দেখেছি আগুন। পরে সবাই মিলে আগুন নেভাই। ঠান্ডা বাতাসের কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু যদি গরমের দিন হতো তাহলে আগুনে আশপাশের ঘরের ক্ষতি হতো।

সাজমিনের বাবা বলেন, গ্রামে মাদক সেবন, ইভটিজিং, মোবাইল চুরি এবং প্রকাশ্যে খুনের হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে মেহেদীর বিরুদ্ধে। তার ভয়ে আমি বাসা থেকে বের হচ্ছি না। তার কার্যকলাপ ও ভয়ভীতির কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার বোন ফারজানা জান্নাত বলেন, এদের সঙ্গে আমাদের গতকাল ঝামেলা হয়েছে। আগুন আমার ভাই লাগায়নি। এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না।

অভিযুক্ত মেহেদীর মা বলেন, আমার ছেলে আগুন দেয়নি। আমরা ঘুমে ছিলাম আগুন লাগার পরে সবার চিৎকার শুনে আমরা আগুন দেখতে পেয়েছি। সে এখন কাজে আছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম সুনামগঞ্জ সংবাদকে বলেন, আমি জেলার বাইরে আছি। আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছে। তাদের মধ্যে আগের দ্বন্দ্ব ছিল। আগুন কারা দিয়েছে তা কেউ দেখেনি। বাকিটা তদন্ত শেষে জানানো হবে।