০২:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের গান অনুমতি ছাড়া ব্যবহার: গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০৮:৫২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩০০ সময় দৃশ্য

শাহ আবদুল করিমের গান অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, গ্রামীণফোনের কাছে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি ছবি: সংগৃহীত

বাংলার কিংবদন্তি বাউল শিল্পী শাহ আবদুল করিমের কালজয়ী গান অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন লিমিটেডের (জিপি) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোম্পানিটির কাছে ২০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি জানিয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

শাহ আবদুল করিমের ছেলে শাহ নূরজালালের পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার রাজিন আহমেদ গত ২৭ আগস্ট গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমানকে উদ্দেশ্য করে এই নোটিশ প্রদান করেন।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, গ্রামীণফোন অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়াই শাহ আবদুল করিমের কপিরাইটকৃত গান টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে প্রকাশিত একটি টিভিসি এবং ২০২২ সালে ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, করিমের গান অনুমতি ছাড়া ব্যবহার শুধু কপিরাইট লঙ্ঘন নয়, বরং তার নৈতিক অধিকারেরও অবমাননা। জিপির বাণিজ্যিক প্রচারণায় এ গানগুলো ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সুবিধা নিয়েছে, অথচ প্রকৃত অধিকারীরা বঞ্চিত হয়েছেন।

নোটিশে দাবি জানানো হয়—শাহ আবদুল করিমের গান অবিলম্বে অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ইউটিউব, ফেসবুক ও টেলিভিশনসহ সব প্ল্যাটফর্ম থেকে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করতে হবে। করিমকে লেখক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। প্রতিটি গানের জন্য ১০ কোটি করে মোট ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের লঙ্ঘন আর না করার বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

অন্যথায়, শাহ আবদুল করিমের পরিবার কপিরাইট আইন, ২০২৩ অনুযায়ী দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার রাজিন আহমেদ বলেন, “শাহ আবদুল করিমের গান শুধু সংগীত নয়, এগুলো বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অংশ। গ্রামীণফোন তাদের ‘রঙিলা বাড়ৈ’ ও ‘কোন মিস্তরি নাও বানাইছে’ গান দুটি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করেছে, যা আইনবিরুদ্ধ ও অসম্মানজনক।”

শাহ আবদুল করিমের ছেলে শাহ নূরজালাল বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ। বাবার সব গান কপিরাইট করা আছে। অনেকে গান করেন, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করলে অনুমতি নেওয়া এবং আয় থেকে আমাদের প্রাপ্য দেওয়া উচিত। তা না হলে এটি আমাদের প্রতি অবিচার।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Sunamganj Sangbad

ফ্যাসিবাদী সরকার মসজিদের নামে যা করেছে, সেটা গর্হিত কাজ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের গান অনুমতি ছাড়া ব্যবহার: গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি

আপডেটের সময় : ০৮:৫২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শাহ আবদুল করিমের গান অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, গ্রামীণফোনের কাছে ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি ছবি: সংগৃহীত

বাংলার কিংবদন্তি বাউল শিল্পী শাহ আবদুল করিমের কালজয়ী গান অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন লিমিটেডের (জিপি) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোম্পানিটির কাছে ২০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি জানিয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

শাহ আবদুল করিমের ছেলে শাহ নূরজালালের পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার রাজিন আহমেদ গত ২৭ আগস্ট গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমানকে উদ্দেশ্য করে এই নোটিশ প্রদান করেন।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, গ্রামীণফোন অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়াই শাহ আবদুল করিমের কপিরাইটকৃত গান টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে প্রকাশিত একটি টিভিসি এবং ২০২২ সালে ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রচারিত একটি বিজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, করিমের গান অনুমতি ছাড়া ব্যবহার শুধু কপিরাইট লঙ্ঘন নয়, বরং তার নৈতিক অধিকারেরও অবমাননা। জিপির বাণিজ্যিক প্রচারণায় এ গানগুলো ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সুবিধা নিয়েছে, অথচ প্রকৃত অধিকারীরা বঞ্চিত হয়েছেন।

নোটিশে দাবি জানানো হয়—শাহ আবদুল করিমের গান অবিলম্বে অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ইউটিউব, ফেসবুক ও টেলিভিশনসহ সব প্ল্যাটফর্ম থেকে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করতে হবে। করিমকে লেখক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। প্রতিটি গানের জন্য ১০ কোটি করে মোট ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের লঙ্ঘন আর না করার বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

অন্যথায়, শাহ আবদুল করিমের পরিবার কপিরাইট আইন, ২০২৩ অনুযায়ী দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার রাজিন আহমেদ বলেন, “শাহ আবদুল করিমের গান শুধু সংগীত নয়, এগুলো বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অংশ। গ্রামীণফোন তাদের ‘রঙিলা বাড়ৈ’ ও ‘কোন মিস্তরি নাও বানাইছে’ গান দুটি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করেছে, যা আইনবিরুদ্ধ ও অসম্মানজনক।”

শাহ আবদুল করিমের ছেলে শাহ নূরজালাল বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ। বাবার সব গান কপিরাইট করা আছে। অনেকে গান করেন, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করলে অনুমতি নেওয়া এবং আয় থেকে আমাদের প্রাপ্য দেওয়া উচিত। তা না হলে এটি আমাদের প্রতি অবিচার।”