০২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা, নষ্ট আড়াই কোটি টাকার ওষুধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:২১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১০৩ বার পড়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় ২৬ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতাল। অথচ চরম অব্যবস্থাপনার কারণে এখানে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ঘটনাটি শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়, বরং রোগীদের প্রাপ্য চিকিৎসাসেবায় ভয়াবহ ঘাটতিরও প্রমাণ দিচ্ছে।

প্রতিদিন বহির্বিভাগে হাজারো রোগীর ভিড় এবং হাসপাতালে গড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ জন রোগী ভর্তি থাকলেও, অধিকাংশকে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে। অথচ সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এই হাসপাতালের জন্য ওষুধ সরবরাহ করে।

সম্প্রতি তদন্তে দেখা যায়, হাসপাতালের স্টোররুমে কার্টনভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের স্তূপ পড়ে আছে—যার কিছু ৬ মাস আগে, আবার কিছু ২০২৩ সালের আগস্টেই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

স্টোরের দায়িত্বে থাকা রাজন দে স্বীকার করেন, তিনি আসলে একজন অ্যানেসথেসিয়া টেকনিশিয়ান, তবে অতিরিক্তভাবে স্টোরের কাজও করছেন। সেখানে আরও সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বে থাকলেও কার্যত কেউই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। নবনিযুক্ত স্টোর কিপার রুপম কুমার দাস অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের মার্চে যোগ দিলেও তাকে এখনো দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

তদন্তের সময় সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে নানা অজুহাত দেওয়া হলেও, শেষ পর্যন্ত পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলাতেও বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুত থাকার প্রমাণ মেলে।

রোগীরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভর্তি থেকেও তাদের অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। স্থানীয় ফার্মেসি মালিকরা প্রশ্ন তুলেছেন—যখন প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন, তখন কোটি টাকার ওষুধ কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হলো?

ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিষ্ণু প্রসাদ চন্দ স্বীকার করে বলেন, এটি অস্বাভাবিক ঘটনা, এবং এসব ওষুধের কোনো সঠিক ডকুমেন্ট পাওয়া যায়নি। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. সুমন বণিক জানান, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিটি নেবে।

সদ্য বিদায়ী তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে কোনো হস্তান্তর পাননি। অন্যদিকে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ও বর্তমান সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা, নষ্ট আড়াই কোটি টাকার ওষুধ

আপডেট সময়ঃ ০৮:২১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় ২৬ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতাল। অথচ চরম অব্যবস্থাপনার কারণে এখানে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ঘটনাটি শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়, বরং রোগীদের প্রাপ্য চিকিৎসাসেবায় ভয়াবহ ঘাটতিরও প্রমাণ দিচ্ছে।

প্রতিদিন বহির্বিভাগে হাজারো রোগীর ভিড় এবং হাসপাতালে গড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ জন রোগী ভর্তি থাকলেও, অধিকাংশকে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে। অথচ সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এই হাসপাতালের জন্য ওষুধ সরবরাহ করে।

সম্প্রতি তদন্তে দেখা যায়, হাসপাতালের স্টোররুমে কার্টনভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের স্তূপ পড়ে আছে—যার কিছু ৬ মাস আগে, আবার কিছু ২০২৩ সালের আগস্টেই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

স্টোরের দায়িত্বে থাকা রাজন দে স্বীকার করেন, তিনি আসলে একজন অ্যানেসথেসিয়া টেকনিশিয়ান, তবে অতিরিক্তভাবে স্টোরের কাজও করছেন। সেখানে আরও সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বে থাকলেও কার্যত কেউই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। নবনিযুক্ত স্টোর কিপার রুপম কুমার দাস অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের মার্চে যোগ দিলেও তাকে এখনো দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

তদন্তের সময় সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে নানা অজুহাত দেওয়া হলেও, শেষ পর্যন্ত পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলাতেও বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুত থাকার প্রমাণ মেলে।

রোগীরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভর্তি থেকেও তাদের অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। স্থানীয় ফার্মেসি মালিকরা প্রশ্ন তুলেছেন—যখন প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন, তখন কোটি টাকার ওষুধ কীভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হলো?

ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিষ্ণু প্রসাদ চন্দ স্বীকার করে বলেন, এটি অস্বাভাবিক ঘটনা, এবং এসব ওষুধের কোনো সঠিক ডকুমেন্ট পাওয়া যায়নি। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. সুমন বণিক জানান, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিটি নেবে।

সদ্য বিদায়ী তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে কোনো হস্তান্তর পাননি। অন্যদিকে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ও বর্তমান সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।