উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের গাজীপুর মহানগর শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব আতাউল্লাহ শাহকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) গভীর রাতে এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। পরে চিঠিটি দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়। এ সময় আতাউল্লাহ শাহ পুলিশি রিমান্ডে ছিলেন।
দলীয় সিদ্ধান্তে স্থায়ী বহিষ্কার
এনসিপির প্রকাশিত চিঠিতে বলা হয়, আতাউল্লাহ শাহের বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক বিধান অনুযায়ী তাঁকে গাজীপুর মহানগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব পদসহ দলের সব পর্যায়ের সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ীতে অভিযান ও গ্রেপ্তার
এর আগে গত ৫ জুলাই ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকার একটি বালুর মাঠে অভিযান চালিয়ে আতাউল্লাহ শাহসহ ছয়জনকে আটক করে পুলিশ।
আটক অন্য ব্যক্তিরা হলেন শাহ আমানত সাবির, হোসাইন তানিম, জুনায়েদ, আবিদুর রহমান এবং বায়োজিত।
পরে যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক এ বি সিদ্দিক তাঁদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে আদালত ছয়জনের প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের আবেদনে যা বলা হয়েছে
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করে, টহল ও অভিযান পরিচালনার সময় গোপন সূত্রে তথ্য পাওয়া যায় যে, যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণের জন্য সমবেত হয়েছেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। তবে ঘটনাস্থল থেকে আতাউল্লাহ শাহসহ ছয়জনকে আটক করা হয়।
রিমান্ড শেষে আদালতের আদেশ
তিন দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার আতাউল্লাহ শাহসহ চারজনকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বাকি দুইজনকে আরও তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আইনগতভাবে কোনো ব্যক্তি আদালতের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। এ ঘটনায় তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
অনলাইন ডেস্ক 












