১১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও—সুনামগঞ্জে দুদকের গণশুনানিতে কমিশনার হাফিজ আহ্সান ফরিদ

ষ্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৫৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫
  • / ২২৫ বার পড়া হয়েছে।

“দুর্নীতি এখন শুধু রাজনীতিবিদ বা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটা ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। এর ব্যাপ্তি গভীর, শেকড় অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।আমরা বারবার বলি আমরা সিঙ্গাপুর হবো মালোশিয়া হবো কিন্তু কেউ বলে না আমরা বাংলাদেশ হবো। এর কারন দূর্ণীতি। কৃষি ব্যাংক এর এক চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে বলেন বাংলাদেশে ১৯৭১ থেকে ১৯৯৫ এই পঁচিশ বছরে যে পরিমান দূর্ণীতি হয়েছে তা দিয়ে পুরো বাংলাদেশকে পাঁচ মিলিমিটার পুরো করে সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো যেতো।চব্বিশ সালে এসে আমরা বুঝতে পারলাম কত দূর্ণীতি করা সম্ভব এই দেশে”—এভাবেই দেশের দুর্নীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার (অনুসন্ধান) অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহ্সান ফরিদ।

সোমবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত দুদকের ১৭৬তম গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “দুর্নীতি হচ্ছে একটি শোষণের হাতিয়ার। এই হাতিয়ারের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আপনারা শুধু ঘুস দেওয়া বন্ধ করেন। আমাদের সন্তানেরা জীবন দিয়েছে, কেউ কেউ পঙ্গু হয়েছে, জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি আপনাদের জীবন দিতে বলছি না—শুধু বলছি, ঘুস দেওয়া বন্ধ করুন। একটু দেরিতে কাজ হবে, কিছু কষ্ট হবে, তবুও ঘুস দেবেন না।”

তিনি আরও বলেন, “ঘুস চাওয়া হলে চুপ থাকবেন না, প্রতিবাদ করুন, ভিডিও করুন, অডিও রেকর্ড করুন, চিৎকার করে লোক জড়ো করুন। আমরা প্রতিবাদ করতে ভুলে গিয়েছিলাম। ৭১ সালের পরে খুব কম প্রতিবাদ হয়েছে। ৯০ এর গণ অভ্যুত্থান এর পরে আর হয়েছে চব্বিশের মহা বিপ্লব । মানুষ প্রতিবাদ করতে শিখেছে। আমরা শিখেছি আমাদের বাচ্ছাদের কাছ থেকে, নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে।।আমাদের ১০৬ নাম্বারে অভিযোগ জানান। একটা দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গড়তে আমাদের সহায়তা করেন।

গণশুনানিতে কমিশনার আরও বলেন, “এখানে যারা স্টেজে বসে আছেন, তাদের বাচ্চারা আজকে যা খাবে, তা জনগণের টাকায়। অথচ আমাদের দেশে সেবা দাতা হয়ে গেছে প্রভু আর সেবাগ্রহীতা যেন ভৃত্য। এই ধারণা থেকে বের হতে হবে। আচরণে নম্রতা আনতে হবে। যার যা প্রাপ্য, সেটা দিলে তো হয়—আর কিছু লাগবে না।”

দুদক জানায়, দেশের সর্বত্র সেবা বঞ্চনা ও দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান এবং সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ ধরনের গণশুনানি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।গণশুনানির আগে সুনামগঞ্জ সদর জুড়ে সপ্তাহব্যাপী মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, অভিযোগ সংগ্রহ বুথ স্থাপন, এবং গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হয়। এর ফলে গণশুনানি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

আজকের গণশুনানিতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, পুলিশ সুপার তোফায়েল আহাম্মেদসহ সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের উপস্থিতিতে সেবা বঞ্চিত জনসাধারণ তাদের অভিযোগ সরাসরি তুলে ধরেন। বেশ কিছু অভিযোগের তাৎক্ষণিক সমাধানও দেয় কমিশন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও—সুনামগঞ্জে দুদকের গণশুনানিতে কমিশনার হাফিজ আহ্সান ফরিদ

আপডেট সময়ঃ ১১:৫৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫

“দুর্নীতি এখন শুধু রাজনীতিবিদ বা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটা ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। এর ব্যাপ্তি গভীর, শেকড় অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।আমরা বারবার বলি আমরা সিঙ্গাপুর হবো মালোশিয়া হবো কিন্তু কেউ বলে না আমরা বাংলাদেশ হবো। এর কারন দূর্ণীতি। কৃষি ব্যাংক এর এক চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে বলেন বাংলাদেশে ১৯৭১ থেকে ১৯৯৫ এই পঁচিশ বছরে যে পরিমান দূর্ণীতি হয়েছে তা দিয়ে পুরো বাংলাদেশকে পাঁচ মিলিমিটার পুরো করে সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো যেতো।চব্বিশ সালে এসে আমরা বুঝতে পারলাম কত দূর্ণীতি করা সম্ভব এই দেশে”—এভাবেই দেশের দুর্নীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার (অনুসন্ধান) অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহ্সান ফরিদ।

সোমবার (১৯ মে) সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত দুদকের ১৭৬তম গণশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “দুর্নীতি হচ্ছে একটি শোষণের হাতিয়ার। এই হাতিয়ারের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আপনারা শুধু ঘুস দেওয়া বন্ধ করেন। আমাদের সন্তানেরা জীবন দিয়েছে, কেউ কেউ পঙ্গু হয়েছে, জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি আপনাদের জীবন দিতে বলছি না—শুধু বলছি, ঘুস দেওয়া বন্ধ করুন। একটু দেরিতে কাজ হবে, কিছু কষ্ট হবে, তবুও ঘুস দেবেন না।”

তিনি আরও বলেন, “ঘুস চাওয়া হলে চুপ থাকবেন না, প্রতিবাদ করুন, ভিডিও করুন, অডিও রেকর্ড করুন, চিৎকার করে লোক জড়ো করুন। আমরা প্রতিবাদ করতে ভুলে গিয়েছিলাম। ৭১ সালের পরে খুব কম প্রতিবাদ হয়েছে। ৯০ এর গণ অভ্যুত্থান এর পরে আর হয়েছে চব্বিশের মহা বিপ্লব । মানুষ প্রতিবাদ করতে শিখেছে। আমরা শিখেছি আমাদের বাচ্ছাদের কাছ থেকে, নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে।।আমাদের ১০৬ নাম্বারে অভিযোগ জানান। একটা দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গড়তে আমাদের সহায়তা করেন।

গণশুনানিতে কমিশনার আরও বলেন, “এখানে যারা স্টেজে বসে আছেন, তাদের বাচ্চারা আজকে যা খাবে, তা জনগণের টাকায়। অথচ আমাদের দেশে সেবা দাতা হয়ে গেছে প্রভু আর সেবাগ্রহীতা যেন ভৃত্য। এই ধারণা থেকে বের হতে হবে। আচরণে নম্রতা আনতে হবে। যার যা প্রাপ্য, সেটা দিলে তো হয়—আর কিছু লাগবে না।”

দুদক জানায়, দেশের সর্বত্র সেবা বঞ্চনা ও দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান এবং সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ ধরনের গণশুনানি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।গণশুনানির আগে সুনামগঞ্জ সদর জুড়ে সপ্তাহব্যাপী মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, অভিযোগ সংগ্রহ বুথ স্থাপন, এবং গণমাধ্যমে প্রচার চালানো হয়। এর ফলে গণশুনানি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

আজকের গণশুনানিতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, পুলিশ সুপার তোফায়েল আহাম্মেদসহ সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের উপস্থিতিতে সেবা বঞ্চিত জনসাধারণ তাদের অভিযোগ সরাসরি তুলে ধরেন। বেশ কিছু অভিযোগের তাৎক্ষণিক সমাধানও দেয় কমিশন।