০২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ক্ষুধায় কাতর গাজাবাসী, জীবিকার তাগিদে খাচ্ছে কচ্ছপের মাংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৪৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫
  • / ১৩৪ বার পড়া হয়েছে।

ছবি:সংগৃহীত

ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা। মানবেতর জীবনযাপন করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে হামলা শুরু করার আগেই দখলদার বাহিনী গাজায় ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। ফলে খাদ্যাভাব চরমে পৌঁছেছে। এমন দুর্দশার মাঝেই ক্ষুধা মেটাতে সামুদ্রিক কচ্ছপের মাংস খেতে বাধ্য হচ্ছেন কিছু গাজাবাসী।

প্রোটিনের বিকল্প উৎস হিসেবে সামুদ্রিক কচ্ছপের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। খোসা ছাড়িয়ে মাংস টুকরো করে তা সেদ্ধ করে পেঁয়াজ, গোলমরিচ, টমেটো ও নানা মশলার সঙ্গে রান্না করা হচ্ছে।

রান্নার ফাঁকে মাজিদা কানান নামের এক গাজাবাসী নারী বলেন, “বাচ্চারা প্রথমে কচ্ছপ দেখে ভয় পেয়েছিল। তখন আমরা তাদের বলি, এটা বাছুরের মাংসের মতোই সুস্বাদু। কেউ কেউ খেয়েছে, কেউ খায়নি।”
ইতোমধ্যে তিনবার কচ্ছপের মাংস রান্না করেছেন ৬১ বছর বয়সি মাজিদা, কারণ এর চেয়ে ভালো কিছু আর নেই। ইসরায়েলি হামলায় বাড়িঘর হারিয়ে এখন পরিবারসহ দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি তাবুতে বসবাস করছেন তিনি।

তিনি বলেন, “বাজারে কিছুই নেই। খোলা নেই কোনো ক্রসিং। সামান্য কিছু সবজির জন্যই আমাকে ৮০ শেকেল (২২ ডলার) খরচ করতে হয়। মাংস তো দুরের কথা।”

অথচ সামুদ্রিক কচ্ছপ আন্তর্জাতিকভাবে একটি বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে সংরক্ষিত। তারপরও গাজার উপকূলে জেলেদের জালে ধরা পড়া এসব কচ্ছপ এখন বেঁচে থাকার উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাজিদা জানান, কচ্ছপের মাংস ময়দা ও ভিনেগারে ধুয়ে একটি পুরনো ধাতব পাত্রে সেদ্ধ করা হয়। এরপর রান্না করা হয় তা।

জেলে আবদেল হালিম কানান বলেন, “কখনো ভাবিনি কচ্ছপ খেতে হবে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই খাদ্যের তীব্র সংকট চলছে। বাজারে নেই মাংস, মুরগি বা সবজি—তাই কচ্ছপ এখন একমাত্র বিকল্প।”

তিনি যোগ করেন, “আমরা ইসলামী রীতিনীতি অনুসরণ করেই কচ্ছপ প্রক্রিয়াজাত করেছি। যদি দুর্ভিক্ষ না হতো, তাহলে কখনো কচ্ছপ খেতাম না। কিন্তু এখন আমাদের প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতেই হচ্ছে।”

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস সতর্ক করেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলে আক্রমণের পর যুদ্ধ শুরু হওয়ায় গাজা ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক হানান বলখি গত জুনে জানান, কিছু গাজাবাসী এতটাই নিরুপায় হয়ে পড়েছে যে পশুর খাবার, ঘাস এমনকি নর্দমার পানিও খাচ্ছে।

সম্প্রতি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল মানবিক সহায়তা বন্ধ করে গাজাবাসীর বিরুদ্ধে ‘অনাহারকে অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

তথ্যসূত্র: আরব নিউজ

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

ক্ষুধায় কাতর গাজাবাসী, জীবিকার তাগিদে খাচ্ছে কচ্ছপের মাংস

আপডেট সময়ঃ ০২:৪৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫

ছবি:সংগৃহীত

ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা। মানবেতর জীবনযাপন করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে হামলা শুরু করার আগেই দখলদার বাহিনী গাজায় ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। ফলে খাদ্যাভাব চরমে পৌঁছেছে। এমন দুর্দশার মাঝেই ক্ষুধা মেটাতে সামুদ্রিক কচ্ছপের মাংস খেতে বাধ্য হচ্ছেন কিছু গাজাবাসী।

প্রোটিনের বিকল্প উৎস হিসেবে সামুদ্রিক কচ্ছপের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। খোসা ছাড়িয়ে মাংস টুকরো করে তা সেদ্ধ করে পেঁয়াজ, গোলমরিচ, টমেটো ও নানা মশলার সঙ্গে রান্না করা হচ্ছে।

রান্নার ফাঁকে মাজিদা কানান নামের এক গাজাবাসী নারী বলেন, “বাচ্চারা প্রথমে কচ্ছপ দেখে ভয় পেয়েছিল। তখন আমরা তাদের বলি, এটা বাছুরের মাংসের মতোই সুস্বাদু। কেউ কেউ খেয়েছে, কেউ খায়নি।”
ইতোমধ্যে তিনবার কচ্ছপের মাংস রান্না করেছেন ৬১ বছর বয়সি মাজিদা, কারণ এর চেয়ে ভালো কিছু আর নেই। ইসরায়েলি হামলায় বাড়িঘর হারিয়ে এখন পরিবারসহ দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি তাবুতে বসবাস করছেন তিনি।

তিনি বলেন, “বাজারে কিছুই নেই। খোলা নেই কোনো ক্রসিং। সামান্য কিছু সবজির জন্যই আমাকে ৮০ শেকেল (২২ ডলার) খরচ করতে হয়। মাংস তো দুরের কথা।”

অথচ সামুদ্রিক কচ্ছপ আন্তর্জাতিকভাবে একটি বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে সংরক্ষিত। তারপরও গাজার উপকূলে জেলেদের জালে ধরা পড়া এসব কচ্ছপ এখন বেঁচে থাকার উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাজিদা জানান, কচ্ছপের মাংস ময়দা ও ভিনেগারে ধুয়ে একটি পুরনো ধাতব পাত্রে সেদ্ধ করা হয়। এরপর রান্না করা হয় তা।

জেলে আবদেল হালিম কানান বলেন, “কখনো ভাবিনি কচ্ছপ খেতে হবে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই খাদ্যের তীব্র সংকট চলছে। বাজারে নেই মাংস, মুরগি বা সবজি—তাই কচ্ছপ এখন একমাত্র বিকল্প।”

তিনি যোগ করেন, “আমরা ইসলামী রীতিনীতি অনুসরণ করেই কচ্ছপ প্রক্রিয়াজাত করেছি। যদি দুর্ভিক্ষ না হতো, তাহলে কখনো কচ্ছপ খেতাম না। কিন্তু এখন আমাদের প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতেই হচ্ছে।”

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস সতর্ক করেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলে আক্রমণের পর যুদ্ধ শুরু হওয়ায় গাজা ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক হানান বলখি গত জুনে জানান, কিছু গাজাবাসী এতটাই নিরুপায় হয়ে পড়েছে যে পশুর খাবার, ঘাস এমনকি নর্দমার পানিও খাচ্ছে।

সম্প্রতি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল মানবিক সহায়তা বন্ধ করে গাজাবাসীর বিরুদ্ধে ‘অনাহারকে অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে।

তথ্যসূত্র: আরব নিউজ